Lead Banner

শুরু হতেই শেষ বোল্টের ক্যারিয়ার

8

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০১৭ সালে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ছাড়ার পরই ঘোষণা দেন পেশাদার ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়ার। নিজের দ্বিতীয় এই স্বপ্ন পূরণের কাজে ঝাঁপিয়েও পড়েন উসাইন বোল্ট। অস্ট্রেলিয়ান ক্লাব সেন্ট্রাল কোস্ট মেরিনার্সের হয়ে পেশাদার ফুটবলের ক্যারিয়ার শুরুও করেছিলেন সর্বকালের দ্রুততম মানব।

কিন্তু ফুটবলার বোল্টের ক্যারিয়ার আটকে গেল কয়েকটি প্রদর্শনী আর প্রীতি ম্যাচের মধ্য দিয়েই। অফিসিয়াল লিগ ম্যাচ খেলার আগেই ফুটবলার ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন বোল্ট। ফুটবল থেকে নিয়ে ফেললেন অবসর!

শুধু ফুটবল থেকে নয়। এর মধ্যদিয়ে ক্রীড়া জীবনেরই ইতি টেনে দিলেন বোল্ট। বিদায়ী ঘোষণায় নিজেই বলেছেন, ‘আমার ক্রীড়া জীবন শেষ।’ ২০১৭ সালে লন্ডন বিশ্ব অ্যাথেলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্যদিয়ে ‘স্প্রিন্টার’ ক্যারিয়ারের ইতি টানেন সর্বকালের সেরা স্প্রিন্টার হিসেবে বিবেচিত জ্যামাইকান বজ্রবিদ্যুৎ।

নিজের দ্বিতীয় স্বপ্ন পূরণের জন্য ওই বছরই জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ফুটবলের ট্রায়ালে নামেন বোল্ট। গতির ঝড় তুলে ট্রায়ালেই মুগ্ধ করেন সবাইকে। এরপর ২০১৮ সালে নরওয়ের ক্লাব স্ট্রোমসগডসেটের হয়ে অনুশীলন শুরু করেন ১০০, ২০০ ও ৪*১০০ মিটার রিলের বিশ্ব রেকর্ডের মালিক।

এই ক্লাবটির হয়ে নরওয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে একটা প্রীতি ম্যাচও খেলেন তিনি। ম্যাচটি তিনি খেলেন ১০০ মিটারে নিজের বিশ্ব রেকর্ড সময় ‘৯.৫৮’ (সেকেণ্ড) নম্বর জার্সি পরে। এরপর বিশ্ব একাদশের হয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডেও একটা প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেন ‘৯.৫৮’ জার্সি পরে।

দু-দুটি প্রীতি-প্রদর্শনী ম্যাচের অভিজ্ঞতায় গত আগস্টে নিজের ৩২তম জন্মদিনে যোগ দেন অস্ট্রেলিয়ার এ লিগের দল মেরিনার্সে। ৩১ আগস্ট সেন্ট্রাল কোস্ট নির্বাচিত একাদশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে মেরিনার্সের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় তার। এরপর গত ১২ অক্টোবর আরও একটা প্রীতি ম্যাচ খেলেন। অপেশাদার ক্লাব ম্যাকার্থার সাউথ ওয়েস্ট ইউনাইটেডের বিপক্ষে সেই ম্যাচটিতে দুটো গোলও করেন তিনি।

তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ মেরিনার্স কোচ পাকাপাকিভাবেই তাকে দলে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে ঘটে যায় এক বিপত্তি। অস্ট্রেলিয়ার আরও দুটি ক্লাব তাকে দলে টানার জন্য প্রস্তাব করে। প্রথমে ভালেত্তি তাকে দুই বছরের চুক্তির প্রস্তাব দেয়।

এরপর মেরিনার্সও তাকে আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রস্তাব দেয়। বোল্টকে দলভুক্ত করার জন্য মেরিনার্সকে অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেয় অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু এই প্রস্তাব প্রস্তাব খেলার মধ্যেই কি নিয়ে যেন বোল্টের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নটা মরে গেছে! ইচ্ছাই যখন মরে গেছে, তখন শুধু শুধু কষ্ট করে লাভ কি! বোল্ট তাই শুরুর আগেই শেষ করে দিলেন ফুটবল ক্যারিয়ারের।

ক্লাব ফুটবলের সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরেই যে এই অকাল অবসর, সেটি বোঝা গেল তার বিদায় ঘোষণা থেকেই, ‘আমি বলব না যে ফুটবলে আমার সময়টা খুব খারাপ গিয়েছে। বা আমি মানিয়ে নিতে পারিনি। তবে যেমনটা চেয়েছি, তেমনটা হয়নি। ফুটবল জীবনটা আমার জন্য আসলেই খুব ভালো একটা অভিজ্ঞতা। একটা দলের সঙ্গে এভাবে থাকাটা আসলেই দারুণ ব্যাপার। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড থেকে এটা সম্পূর্ণ আলাদা। যতদিন ছিলাম, সময়টা উপভোগ করেছি।’

ক্রীড়া জীবনের ইতি। মানে মাঠের পালা শেষ। জীবনের বাকি সময়টাতে কী করবেন? বোল্ট এরই মধ্যে ঠিক করে ফেলেছেন লক্ষ্য। হবেন ব্যবসায়ী। নিজেই বলেছেন, ‘মাঠের খেলা ছাড়াও অনেক কিছু করার আছে জীবনে। সামনে অনেক সম্ভাবনাই আছে। তবে আমি মূলত ব্যবসাই বেছে নেব। সম্ভব ব্যবসাতেই মনোযোগ দিচ্ছি।’

চাইলে স্প্রিন্টার, ফুটবলার তকমার পাশাপাশি এখন থেকে বোল্টকে ব্যবসায়ী বোল্ট হিসেবেও ডাকা শুরু করতে পারেন!