Lead Banner

দুপুরে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ-উইন্ডিজ মুখোমুখি

6

ক্রীড়া ডেস্ক : তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে রোববার (৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে উইন্ডিজ। এই সিরিজ জিতে ক্যারিবিয়ারা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারতে চায়। নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে চায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ চায় আরো একটি সিরিজ জিতে ২০১৮ সাল শেষ করতে।

তবে ফরম্যাটটা যখন ওয়ানডে, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের লড়াই হতেই পারে। মাশরাফির মতে এই ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাসল পাওয়ার বেশি। ফরম্যাট যত ছোট হবে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য ততো সুবিধা। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলেও ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়াতে আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শনিবার জানিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল, ‘অনেক দিন ধরে আমরা ওয়ানডে সিরিজ জিতিনি। সিরিজ জিততে সবাই মুখিয়ে আছে এবং নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জেতার চেয়ে ভালো সুযোগ আমাদের আর আসবে না। সিরিজ জিততে পারাটা আমাদের জন্য হবে দারুণ কিছু।’

সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল ২০১৪ সালে। ঘরের মাঠে সেবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল তারা। এরপর আর সিরিজ জেতা হয়নি তাদের। অন্যদিকে চলতি বছর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হেরেছে। এবার তারা বাংলাদেশকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে সিরিজ জিততে চায়।

রভম্যান পাওয়েল এ বিষয়ে বলেছেন, ‘এটা খুব চ্যালেঞ্জিং হবে। ঘরের সুবিধায় থাকা যেকোন দলকে মোকাবেলা করা কঠিন। বাংলাদের ঘরের মাঠে খুবই ভাল দল। দলগতভাবে আমরা এ বিষয়ে বেশ সতর্ক আছি। ক্যারিবিয়ানে তারা আমাদের পরাজিত করেছে। আর আমরা এখানে ঠিক সেটাই করতে চাচ্ছি। আমার মনে হয় বাংলাদেশকে হারানোর জন্য আমরা যথেষ্ট ভাল দল। তামিম-সাকিব ফেরায় তারা পূর্ণ শক্তি পেয়েছে। কিন্তু আমরাও পূর্ণ শক্তির কাছাকাছিই আছি। খুবই রোমাঞ্চকর সিরিজ হবে।’

২০১৪ সালের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১টি সিরিজ হেরেছে। আফগানিস্তানের মতো দলের বিপক্ষেও তারা সিরিজ হেরেছে। জুলাইতে তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে। আর সবশেষ অক্টোবরে ভারতের কাছে তারা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতেছে। সবশেষ ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচও দাপটের সঙ্গে জিতেছে। সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে যেকোনো দলকে হারিয়ে দেওয়ার সামর্থ রাখে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিতে বছরের শেষরা রাঙাতে চান মাশরাফি বিন মুর্তজা, ‘আমার কাছে মনে হয় এই বছর আমাদের রেটিং খুব ভালো আছে। ভালোভাবে শেষ করতে পারলে খুব ভালো হবে। বিশেষ করে সামনের বছরের শুরু থেকে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। শেষটা ভালো করলে এই বছরটা খুব ভালো যাবে।’

ঘরের মাঠে খেলা হলেও মাশরাফি নিজেদের ফেবারিট মনে করছেন না। তবে সব বিভাগে ভালো খেললে ভালো ফল আসবে বলে মনে করছেন, ‘ফেবারিটের ক্ষেত্রে আমি বলব সমানভাবে। কারণ ওদের দলে কিছু আছে যেটা দুর্দান্ত। একজন ফাস্ট বোলার আছে। জোরে বোলিং করবে। যেটা হয় যে, জোরে বল করা বোলারদের ক্ষেত্রে অনেক সময় হুটহাট করে উইকেট পড়ে যায়। তাতে শুরুতে চাপ আসে। তাই এই জায়গাগুলো চিন্তা করার ব্যাপার আছে। একইভাবে ওরা কিছু জিনিসে আমাদের থেকে অনেক বেশি সাহায্য পাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আসলে মাসল পাওয়ার অনেক বেশি। এই ধরনের ফরম্যাটে একজন দুইজন কিন্তু গেইম চেইঞ্জ করে দিতে পারে। এই জায়গাটায় ওদের কয়েকজন আছে এমন, ডেস্ট্রয় করতে পারে। আমাদের ওদের বিপক্ষে এই পার্টটা খেয়াল রাখতে হবে। ওদের জন্য ফরম্যাট যত ছোট হবে তত বেশি স্যুট করবে। তাই আমাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে ওরা যেন জুটি বড় করতে না পারে। আর এমনি এমনি তো জেতা সম্ভব না। অবশ্যই হোম ওয়ার্ক, একইসঙ্গে মাঠে বাস্তবায়নটা শতভাগ ঠিক থাকতে হবে। অন্তত ৮০ ভাগ ঠিক থাকলে হয়তোবা ভালো ম্যাচ হবে। আমি আশা করছি না যে টেস্টের মতো বা আগে পরে যেসব ম্যাচ জিতে আসছি এত সহজ হবে।’

তারপরও খেলা যখন ঘরের মাঠে, আর সাকিব-তামিম যখন দলে ফিরেছেন, তখন আরো একটি সিরিজ জয়ের প্রত্যাশা করতেই পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমিরা। আর সেটার শুরুটা হোক আজকের ম্যাচে জয় দিয়ে।

বীকনবাংলা/এসভি