Lead Banner

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম তাড়াতে বিজেপির হ্যান্ডবিল বিতরণ

7

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার ফর সিটিজেনস (এনআরসি) বা নাগরিক তালিকার দাবি তুলে ধরতে এবার জেলায় জেলায় হ্যান্ডবিল বিতরণ শুরু করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন পার্টি বিজেপি। চার পাতার হ্যান্ডবিলটির মূল বক্তব্য হলো বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিমদের ফেরত পাঠাতে হবে।

হ্যান্ডবিলে বলা হয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গকে যদি ইসলামী মৌলবাদী আধিপত্য ও দখলের হাত থেকে বাঁচাতে হয় তবে এনআরসি করে বাংলাদেশি মুসলমানদের চিহ্নিত করে তাদেরকে বিতাড়িত করতে হবে।

আরও বলা হয়েছে, বিজেপি উদ্বাস্তু এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ফারাক বোঝে, তাই বাংলাদেশ, আফগানিস্তান বা পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, খ্রিষ্টান, জৈন বা পারসিদের কোনোভাবেই ক্ষতি হবে না, কারণ ২০১৫ সালে পাসপোর্ট ও বিদেশি আইন সংশোধন করা হয়ে গেছে। খুব শিগগির নাগরিকত্ব বিল পারলামেন্টে পাস করানো হবে।

বিজেপি নেতা রাহুল সিংহ বলেন, আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হ্যান্ডবিল বিলি করছি এবং মানুষকে বোঝাচ্ছি পশ্চিমবঙ্গে কেন এনআরসি দরকার।

উত্তরপূর্ব রাজ্য আসামে নাগরিকদের তালিকা থেকে ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার পর এনআরসি নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে তিনি অভয় দিয়ে বলেছেন, এই রাজ্যে এনআরসি চালু করতে দেবেন না তিনি। মমতা আরও বলেছেন, বাঙালিদের ওপর এই অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর দল দেশব্যাপী আন্দোলন করবে।

ইতোমধ্যে বিজেপির নেতৃত্ব লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি আসনের মধ্যে ২২টি আসন পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, আর অনেক নেতাই মনে করেন যে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করতে পারলেই সেই লক্ষ্য পূরণ হবে।

বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এনআরসি’র বিরোধিতার অর্থ হলো বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ সমর্থন করা। আর অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি প্রচার করেছে বিজেপি। দলটির পক্ষ থেকে যদিও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা কত তা নিয়ে কোনও হিসেব দেওয়া হয়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি’র কাজ কীভাবে শুরু হবে তা নিয়ে হ্যান্ডবিলে কিছু বলা নেই।

তৃণমূলের এক মন্ত্রী বলেন, আসামের নাগরিক তালিকার কাজ সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে হয়েছিল। বিজেপি চাইলেই এনআরসি’র কাজ পশ্চিমবঙ্গে শুরু করতে পারবে না। তারা এনআরসি’র কথা বলে শুধু রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

বীকনবাংলা/হিমাংশু