Lead Banner

‘আসল’ ছিনতাই ‘নকল’ অস্ত্রে

5

সিলেট প্রতিনিধি: ঘটনা-১

সিলেট নগরীর কাজিটুলা কাহের মিয়ার গলি। প্রতিদিনের মতো রিকশায় করে কর্মক্ষেত্রে যাচ্ছেন রাজিয়া। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কাহের মিয়ার গলিতে দুটি মোটরসাইকেল রিকশার গতিপথ আটকায়। ছোরা উঁচিয়ে ছিনিয়ে নেয় সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও ফোন।

ঘটনা-২

নগরীর তালতলা এলাকা। সশস্ত্র ছিনতাইকারী এক নারী ব্যাংকারের রিকশার গতিরোধ করে সঙ্গে থাকা টাকা ও ফোন ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনা-৩

নগরীর আম্বরখানা মোড়। ছিনতাইকারীরা পাথর ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে দুই লাখ টাকা নিয়ে যায়।

প্রতিটি ঘটনায় কোনো না কোনো অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাইকারীরা। তবে অস্ত্রগুলো আসলেই প্রাণঘাতী না খেলনা—তা যাচাইয়ের কথা মনে বা চেষ্টাও করেননি ভুক্তভোগীরা। কারণ আগে প্রাণ, পরে ধন। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে সর্বস্ব তুলে দেন ছিনতাইকারীদের হাতে।

এমন ছোট-খাটো ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে সিলেট নগরীতে। সব ঘটনার খবর থানা পুলিশের কাছে পৌঁছায় না কিংবা ভুক্তভোগীরা মামলায় আগ্রহীও হন না। নিজের সব খুইয়ে মামলা পর্যন্ত যাওয়াটাকে অনেকেই ঝক্কি-ঝামেলার মনে করে এড়িয়ে যান।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্য রকম তথ্য। গত কয়েক মাসে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ছিনতাইয়ের ঘটনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, নগরীতে ঘটে যাওয়া ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রকৃত অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি খেলনা পিস্তল ব্যবহার করে ছিনতাইকারীরা। খেলনা পিস্তলগুলো এমনভাবে তৈরি, যা হাতে নিয়ে পরখ না করে বোঝা যায় না এগুলো আসল নাকি নকল।

খেলনা পিস্তলগুলো লেদার কাভার ডিজাইন করার কারণে সাধারণ মানুষ এমনকি প্রশাসনের লোকজনও মাঝে মাঝে বিব্রত হয়।

এসব বহুরূপী অস্ত্রের সন্ধানে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নগরীতেই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এই ‘নির্দোষ’ খেলনাগুলো। দেখতে অবিকল আসল পিস্তলের মতো হওয়ায় অপরাধীরা স্বল্পমূল্যে কিনে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে লুটে নিচ্ছে তাদের সর্বস্ব। আর এমন অবস্থা ঠেকাতে অলআউট অ্যাকশন শুরু করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)।

এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মূসা বলেন, খেলনা পিস্তলগুলো এমনভাবে তৈরি, যা দূর থেকে দেখে বোঝা যায় না আসল না নকল। এগুলো চীন বা অন্য কোনো দেশ থেকে বিভিন্নভাবে দেশের মার্কেটে ঢোকে। আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, অনেক ছিনতাইকারী এগুলো দোকান থেকে কিনে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করে। তাই আমরা নগরীর মার্কেটগুলোতে যাতে ভয়ংকর অস্ত্রের আদলে তৈরি খেলনা পিস্তল বিক্রি না হয়, তার জন্য বিশেষ অভিযান শুরু করেছি। খেলনা পিস্তল ঠেকিয়ে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়ার বেশ কিছু ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় এ অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরীর আল হামরা মার্কেটের নিচতলায় স্মাইলি ফ্যাশন নামে একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ছয়টি খেলনা পিস্তল ও ২২টি ছোট-বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব খেলনা পিস্তুল ও ছোরা কিনে দুষ্কৃতকারীরা ছিনতাইয়ে ব্যবহার করেন। যে কারণে দোকানগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে। এখন থেকে পর্যায়ক্রমে এসব দোকানে অভিযান চালানো হবে।