Lead Banner

হত্যাকারীদের নাম বলে গেছেন সাংবাদিক সুবর্ণা

16

পাবনা প্রতিনিধি: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদী (৩২) মৃত্যুর আগেই তার মা ও মেয়েকে হামলাকারীদের নাম বলে গেছেন। সাবেক স্বামী রাজীব ও রাজীবের সহকারী মিলনসহ কয়েকজন তাকে কুপিয়েছেন বলে হাসপাতালে আহতাবস্থায় জানিয়েছিলেন সুবর্ণা আক্তার।

বুধবার (২৯ আগস্ট) সকালে সুবর্ণার মা মর্জিনা বেগম বলেন, মেয়ে মৃত্যুর আগে হাসপাতালে হামলাকারীদের নাম আমাদের জানিয়ে গেছে। রাজীব ও তার সহকারী মিলনসহ কয়েকজন তাকে কুপিয়েছে। আমার মেয়ে তাদের চিনেছিল। র‌্যাব ও পুলিশকে আমি সব তথ্য জানিয়েছি। আমি তাদের ফাঁসি চাই।

নিহত সুবর্ণার মেয়ে জান্নাতও(৯) একই তথ্য পুলিশকে জানিয়েছে। স্বামীর পাশাপাশি সুবর্ণা যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তার কেয়ারটেকার ও সুবর্ণার শ্বশুর আবুল হোসেনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে সুবর্ণার শ্বশুর ও কেয়ারটেকার ইমরান হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তবে রাজীব এখনও পলাতক।

এদিকে এ ঘটনায় বুধবার সকালে নদী হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনা শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি করেছেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তবে খুব শিগগির আমরা মূল হোতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পারবো।

তিনি আরো জানান, মামলায় শিল্পপতি আবুল হোসেন, তার ছেলে রাজিব ও রাজিবের সহকারী মিলনসহ অজ্ঞাত ৬/৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি আবুল হোসেনকে (৬০) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি ইড্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস (ইউনানী) ও শিমলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং নিহত নদীর দ্বিতীয় স্বামী রাজিবের বাবা।

সুবর্ণা নদী আনন্দ টিভির পাশাপাশি স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল দৈনিক জাগ্রতবাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। রাজীবের সঙ্গে বিয়ের আগেও তার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে তার ৯ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সুবর্ণা নদী জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর মেয়ে।

মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাবনা শহরের রাধানগর মজুমদারপাড়া এলাকায় সুবর্ণার ঘরে তাকে খুন করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পৌর সদরের রাধানগর মহল্লায় আলীয়া মাদরাসার পশ্চিম পাশের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন সুবর্ণা।

বীকনবাংলা/হিমাংশু