Lead Banner

মিডফোর্ডে একদিন

109

ডা: রোখসানা ইয়াসমিন ছন্দা:

হোস্টেলে ফিরে যদি দেখা যায় বাথরুমে পানি নাই, কেমন লাগে কেউ ভাষায় ব্যক্ত করতে পারবে? তাই হয়েছে! ক্লাস শেষে হোস্টেলে ফিরে তাড়াহুড়া করে গোসলের সিরিয়াল দিলাম আমি আর আমার বান্ধবী সুরভী। কখনো প্রথম দিকে সিরিয়াল পাইনা দেখে আমরা খুব খুশি যে আজ পেয়েছি! কিন্তু, মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়লো-কোথাও এক ফোঁটা পানি নেই। এদিকে ভাগ্যদেবী এক কাঠি সরেস, আমরা দু’জনেই গোসলের আগে মাথায় তেল দিয়ে চিটচিটে অবস্থা। রাগে-দুঃখে মাথার তার ছেঁড়ার দশা।
একটি খবরে হার্ট-এ্যাটাক করতে বসলাম আমি আর সুরভী। আমরা অন্য মেয়েদের (আর্নি, সাকি, তানহা, তিথি, পপি) খাবার পানি কখনো অনুমতিক্রমে, কখনো অনুমতি ছাড়াই হোস্টেল জীবন শুরু থেকেই পান করে আসছি। নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা তৈরী করার আকাঙ্ক্ষা হয়নি, কারণ প্রয়োজন বোধ হয়নি। আজ দেখি এখানেও বিড়াম্বনা! কারো কাছেই খাবার পানি নেই, যাদের আছে তারা সঞ্চয় করে চলার চেষ্ঠা করছে। অনেকক্ষণ ভাগ্যকে দুষলাম, কখনো বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করায়, কখনো মিডফোর্ড হোস্টেলকে, কখনো মেডিকেলে পড়ার জন্য বাবা-মাকে। তবে যাই করি-না কেন, পানির দেখা নাই। অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় আমি আর সুরভী পণ করলাম আর না। এবার নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতেই তুলে নিতে হবে! দু’জনে কলস কিনে পানি সঞ্চয়ে রাখতে হবে বলে ঠিক করলাম। অন্তত খাওয়ার পানি থাকবে আর বিপদে কিছু পানি ব্যয় করা যাবে।
প্রায় উন্মাদ অবস্থা। এক জামা-পায়জামা, আরেক ওড়না, তেল চিটচিটে অবস্থা আমরা দু’জনে চকবাজার এলাকায় তৈজসপত্রের এক দোকানে গিয়ে ঢুকলাম। ঢুকে বিভিন্ন মাপের কলস দরদাম করার চেষ্টা করছি। কিন্তু দোকানী বিশেষ পাত্তা দিচ্ছে না। যেন বিক্রি না হলেই সে খুশি! বিষয়টা ঠিকবুঝতে পারছি না। এমতাবস্থায়, দোকানী আমাদের জিজ্ঞেস করেই বসলো- ‘তোমরা কোন বাড়িতে কাজ করো?’ প্রশ্ন শুনে হাসবো না কাঁদবো, দাঁড়িয়ে থাকবো না দৌঁড় দিব, নাকি লোকটার উপর চড়াও হব, আমাদের দু’জনের কারো মাথায়ই আসলো না। হতভম্ব অবস্থায় কোন কথা না বলে আমরা দোকান থেকে বেরিয়ে হোস্টেলের দিকে রওনা দিলাম। হতাশা, দুঃখ, গ্লানি, বিষাদ, রাগ সব ভর করেছে মনে।
তবে হোস্টেল লাইফের যা বৈশিষ্ট্য, মন খারাপ করে বেশিক্ষণ থাকা যায় না। আমাদের মনও ভাল হয়ে গেল এবং অভিজ্ঞতা অন্যদের সাথে শেয়ার করে বিপুল হাস্যরসেরও সঞ্চার করা গেল।
এখনো এই ঘটনা মনে পড়লে শত মন খারাপের মাঝেও মুখে হাসি চলে আসে।