Lead Banner

লেখক সাদত আল মাহমুদের জন্মদিন বৃহস্পতিবার

19

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিশু সাহিত্যিক, নাট্যকার, উপন্যাসিক ও সাংবাদিক সাদত আল মাহমুদের জন্মদিন ১ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার দুবাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তার বাবার নাম মো. আব্দুর রাজ্জাক। ৪ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি মেঝো। স্ত্রী ও মেয়ে সায়মা মাহমুদকে নিয়ে ঢাকায় তাঁর পারিবারিক আবহ।

‘রাজাকার কন্যা’র নন্দিত লেখক সাদত আল মাহমুদ উচিতবাদী, চরম কৃতজ্ঞ, সাদামাটা সহজ-সরল ও চিরসবুজ মনের মানুষ হিসেবে বারংবার বিচরণ করেছেন বিচক্ষণতা, কো-অপারেটিভ আচরণ ও মানবিক গুণাবলিতে।

তার লেখালিখি শুরু ১৬ বছর বয়স থেকেই। তখন নবম কি দশম শ্রেণিতে পড়েন সাদাত। স্কুলের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কবিতা লিখতেন। এছাড়া দেয়াল পত্রিকা, বিভিন্ন ম্যাগাজিনে তাঁর লেখা প্রকাশিত হতো। ১৮ তে তিনি ‘শেষ বেলায়’ নামক প্রথম উপন্যাস লেখেন, যদিও তা মলাটবন্দী করেন নি।

লেখক হিসেবে সাদত আল মাহমুদের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় বাঙালি জীবনছবির নিবিড়-নিপুণ কারিগরের ভূমিকা। দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ এক মানুষ সাদত আল মাহমুদের আজ ৪৩তম জন্মদিন। ৪৩ বছর পেরিয়ে এখনো তিনি মনে-প্রাণে ১৮ বছরের তরুণ।

প্রায় ২ দশক ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে যাচ্ছেন তিনি। মধ্যবিত্তের ছোট ছোট সুখ আর বড় বড় দুঃখকে পরম আদরে সাহিত্য বানিয়েছেন তিনি। আর সেইসব আদরমাখা লেখা পড়ে এ প্রজন্মের অনেকের চোখে জল ঝরেছে। সমাজের বড় বড় অসঙ্গতি খুব সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর কথামালায়।

‘চিতার আগুনে’ সাদত আল মাহমুদের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস। পাশাপাশি ছোটগল্প, রম্য রচনা, প্রবন্ধ ও ভৌতিক গল্প লিখেন। প্রাঞ্জল ভাষা, স্বচ্ছ বিচার-বিশ্লেষণ আর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণশক্তি লেখাকে কী পরিমাণে শাণিত করে তোলে সাদত আল মাহমুদের উপন্যাস পড়লেই বোঝা যায়।

সেলিব্রেটি লেখক হতেও চান না সাদাত। তিনি লেখার মাধ্যমে সমাজ বদলাতে চান। তাঁর উদ্দেশ্য সমাজের অসঙ্গতি ও সমস্যাগুলো তাঁর উপন্যাস ও গল্পের ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরা যাতে পাঠক সমস্যাগুলো পড়ে সাহিত্যরসের মাধ্যমে মনে ধারণ করে সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।

সব ঠিক থাকলে ২০১৯ সালের বইমেলায় ‘ঘোড়া’ নামের একটা উপন্যাস নিয়ে হাজির হবেন পাঠকদের সামনে। ঘোড়া উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছে একজন সাংবাদিক। তিনি বিভিন্ন জায়গায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘোড়া নিয়ে যান। ঘোড়ার কপালে ‘প্রেস’ লেখা একটা স্টিকার থাকে। ঘোড়া যেখানে-সেখানে, অফিস-আদালতে মল ত্যাগ করার কারণে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সম্পাদকের কাছে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ আসতে থাকে। এই ঘোড়া পাগলামীর কারণে একদিকে সংসারে ভাঙনের সুর অন্যদিকে চাকরি যায়যায় অবস্থা। এ রকম বেদনাদায়ক ও ব্যতিক্রমধর্মী কাহিনি নিয়ে আগামী বইমেলায় আসছে সাদত আল মাহমুদের ‘ঘোড়া’ উপন্যাসটি।

সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন ১৯৯৭ সালে। ঢাকার পাক্ষিক তৃতীয় মাত্রা ও পোলট্রি বিচিত্রা খামার পত্রিকার মাধ্যমে। এরপর তিনি দৈনিক সমকাল, জনকণ্ঠ, মুক্তকণ্ঠ, খোলা কাগজ, বাংলাদেশের খবর, সকালের খবর, প্রতিদিনের সংবাদ, ইনকিলাবসহ দেশের প্রধান প্রধান পত্রিকায় বিভিন্ন সম্মানজনক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

সাদত আল মাহমুদ ১৯৯৭ এর দিকে নাটক লেখার কাজ শুরু করেন এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি নাটক রচনা করেছেন। তাঁর লেখা নাটকগুলো মধ্যে শেকড়ের টানে অন্যতম। তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনেও দীর্ঘদিন নাট্যকার হিসেবে কাজ করেছেন।

সাদত আল মাহমুদ বলেন, ৩০ লাখ প্রাণ এবং ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা এই দেশ পেয়েছি। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেল খেটেছেন। দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা যে আজ স্বাধীনতা ভোগ করছি, দেশটা কীভাবে পেলাম তার সঠিক ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মকে জানাতে হবে। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সঠিক তথ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য আমি ‘রাজাকার কন্যা’ বইটি লিখেছি।

নতুন লেখক সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুনদের সুযোগ দিতে হবে। সক্রেটিসর, শেক্সপিয়ার, বার্নাড শ, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, হুমায়ুন আহমেদের পুনর্জম্ম হবে না। যদি নতুন লেখকের জন্ম না হয় তাহলে বাংলা সাহিত্য দন্যদশায় পড়ে যাবে।

বীকনবাংলা/এইচআর