Lead Banner

‘সিঙ্গল’ থাকার উপকারিতাই বেশি!

6

লাইফস্টাইল ডেস্ক: আপনি কি এখনও সিঙ্গল? এ বারের ভ্যালেন্টাইনস ডে-তেই কি একাকীত্ব কাটানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন? তাহলে একটু দাঁড়ান। এই প্রতিবেদন আপনার চিন্তাধারা বদলেও দিতে পারে। বিজ্ঞানীদের গবেষণার রিপোর্ট বলছে, সিঙ্গল থাকার একাধিক সুবিধা রয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়া স্যান্টা বারবারার মনোবিদ বেলা দেপাওলো তার গবেষণার কথা বিভিন্ন দেশে তুলে ধরেছেন। তার তত্ত্ব খারিজ করে দিতে পারেননি অনেক মনোবিদই। TEDx Talk-এ তার বক্তৃতাতেও সিঙ্গল থাকার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি। তার গবেষণার বিভিন্ন দিকগুলোর দিকে একবার নজর রাখা যাক।

‘সিঙ্গল’দের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী

২০১৫ সালে সমাজবিজ্ঞানী নাতালিয়া সারকিসিয়ান ও নওমি গার্স্টেল বিবাহিত এবং অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কদের আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মেলামেশার একটা তুলনা তুলে ধরেছিলেন। তাদের গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, অবিবাহিতদের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক শুধু যে শক্তিশালী তা নয়, তারা সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষকে সহযোগিতা দেওয়া ও পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সহজলভ্য। যেটা দেখা যায় না বিবাহিতদের ক্ষেত্রে।

অবিবাহিতরা সাধারণত বেশি ফিট হন

বিয়ের পর বহু মানুষের ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস জীবনযাত্রায় যুক্ত হয়, যা তাদের শারীরিক ফিটনেসে ব্যাঘাত ঘটায়। ১৮-৬৪ বছর বয়সী ১৩ হাজার মানুষের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা দেখেছেন, যারা অবিবাহিত তাদের মধ্যে নিয়মিত ওয়ার্ক-আউট করার অভ্যাস বেশি। যে প্রবণতা বিবাহিত বা ডিভোর্সিদের মধ্যে অনেক কম। ২০১৫ সালে সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিনে প্রকাশিত একটি পত্রিকায় বিবাহিত ও অবিবাহিতদের বডি মাস ইনডেক্স নিয়ে একটি গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। তাতে দাবি করা হয়, ৯টি ইউরোপীয় দেশে ৪,৫০০ জনের উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, বিবাহিতদের থেকে অবিবাহিতদের BMI গড়ে কম। এছাড়াও বিবাহিতদের ওজন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের থেকে ৪-৫ পাউন্ড বেশি থাকে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

একাকী সময়কে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিসত্ত্বার অগ্রগতিতে বেশি সক্ষম ‘সিঙ্গল’রা

বিভিন্ন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, স্বাধীন জীবনযাপন সৃজনশীলতার মাত্রা বাড়িয়ে ব্যক্তিসত্ত্বার অগ্রগতিতে সহায়তা করে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অ্যামি মোরিনের দাবি, একাকী সময় ব্যক্তির উৎপাদনক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তার কথায়, ‘একাকী সময় একাকীত্ব আনে না। বরং নিজেকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে।’

এইসময় পত্রিকার খবরে বলা হয়, ২০১৬ সালে আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনে তার দেওয়া প্রেজেন্টেশনে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে দেপাওলো দাবি করেছিলেন, অবিবাহিত ব্যক্তিদের অনুভূতি অনেক গভীর। তাদের নিজের উপর আস্থাও অনেক বেশি থাকে। বিবাহিতদের থেকে তাদের মানসিক বিকাশের সুযোগও অনেক বেশি।