Lead Banner

টাঙ্গাইলের বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাতেন আর নেই

4

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাতেন বাহিনী-প্রধান ও টাঙ্গাইল-৬ আসনের সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আবদুল বাতেন (৮২) আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

রোববার রাতে ঢাকার ন্যাম ভবনের নিজ কক্ষে ঘুমের মধ্যেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে ঢাকার ন্যাম ভবনের নিজ কক্ষে তিনি ঘুমিয়েছিলেন। রাতের কোনো এক সময় ঘুমের মধ্যেই তিনি মারা যান।

সোমবার দুপুর দেড়টায় সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরহুমের লাশ নিজ নির্বাচনী এলাকায় আনা হবে বলে। পরে আগামীকাল মঙ্গলবার নাগরপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ায়ামে নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

তিনি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারের একাদশ সংসদ নির্বাচনে দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনীর বীরত্বগাথা অনেকেরই জানা। সে সময় টাঙ্গাইলে আরেকটি বাহিনী গড়ে উঠেছিল, যার নাম ‘বাতেন বাহিনী’। সেই বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য অবদানের কথাও মনে রাখবে টাঙ্গাইলবাসী। সরকারি সাদত কলেজ ছাত্রসংসদের তখনকার সহ-সভাপতি খন্দকার আবদুল বাতেন নিজের নামে গঠন করেছিলেন এই বাহিনী।

এই বাহিনীর ছিল ২১টি কোম্পানি, ৬৩টি প্লাটুন ও ১০০টি সেকশন। মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল আট হাজারের মতো। স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন এক হাজার ২০০ জন। রিক্রুটিং সেন্টার ছিল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী। আর ট্রেনিং সেন্টার ছিল যুদ্ধ এলাকা ও ভারতে। যুদ্ধ এলাকা ছিল টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, পাবনা ও ঢাকার কিছু অংশ।