Lead Banner

সাংবাদিকতার জগতে স্বাগতম!

36

লেখক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

মুহাম্মদ আজিজুর রহমান:

সাংবাদিক, সাংবাদিকতা, লেখক ও কলামিস্টে দেশ সয়লাব। এক সময় মূল ধারার সংবাদপত্রের সাথে বিটিভি ছিল একমাত্র ভরসা। এখন সেখানে অসংখ্যা মূল ধারার পত্রিকার সাথে ব্যাঙের ছাতার মত অজস্র অনলাইন পত্রিকা। বিটিভির সাথে ত্রিশের অধিক টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যমে এক ধরনের বিপ্লব ঘটিয়েছে। বিপ্লব যে সব সময় ভালোই বয়ে আনে তা কিন্তু নয় বরং কোন কোন সময় তা জাতির সর্বনাশও ডেকে আনতে পারে। বর্তমান বাংলাদেশে সবাই সাংবাদিক, কলামিস্ট আবার অনেকেই একটা পত্রিকার মালিক। সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে সবাই কম বেশী লেখালেখির সাথে জড়িত। সেই সব লেখা সব সময় মান সম্মত হবে না সেটাই স্বাভাবিক বরং কোন সময় তা গুজবে পরিনত হয়ে মারাত্মক সংকটের সৃষ্টি করে। সেই হিসেবে বলা যায় মূল ধারার সংবাদ মাধ্যম বুঝে শুনে সংবাদ প্রকাশ করে অথবা বলা যায় তাদের মধ্যে এখনও কিছুটা দায়বদ্ধতা আছে। যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষকে সঠিক জায়গায় কাজ করতে না দিলে , তাদেরকে উপযুক্ত সম্মান না দিলে সংবাদ মাধ্যমের যে বিপ্লব বাংলাদেশে সাধিত হয়েছে তা ধরে রাখা যাবে না বরং তা সাংবাদিক, লেখক, কলামিস্টদের সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।

সাংবাদিক হতে হলে কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না, পত্রিকায় রির্পোটিং এর অভিজ্ঞতাও লাগে না এমনকি সাংবাদিক হতে হলে কোন পত্রিকার সাথে যোগযোগও লাগে না। সবাই রির্পোটার, লেখক, কলামিস্ট এমনকি সম্পাদক পরিচয় দিতে ভালোবাসে। হাজার হাজার অনলাইন পত্রিকা। অধিকাংশ পত্রিকা কপি পেস্টের উপর নির্ভর করে চলছে, নিজস্ব অফিস পর্যন্ত নেই। নেই কোন মফস্বল প্রতিনিধি। আপনি যদি নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতে চান তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা করতে পারেন কিন্তু আপনি যদি পত্রিকা করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে নিজের থেকে কিছু নীতি ও নৈতিকতা মেনে চলতে হবে। কেউ আপনাকে এ সব মানতে বাধ্য করবে না কিন্তু আপনি যদি সত্যিকারের সাংবাদিক হন যদি আপনি পত্রিকাকে ভালোবাসেন তাহলে আপনি নিজের সাথে প্রতারনা করতে পারেন না।

সাংবাদিকদের যে বিচক্ষনতা , রির্পোট করার অভিজ্ঞতা , অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তার কিছুই এখন উপস্থিত নেই। কেমন যেন শর্টকার্ট পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে। পড়াশুনা করে কেউ লেখা লেখি করে বলে মনে হয় না। প্রায় সব পত্রিকায় একই ধরনের লেখা দেখা যায়। আগে কলামিস্টদের লেখার ধরন ছিল ভিন্ন। এখন লেখার ধরন ও লেখকের নাম দেখলেই বোঝা যায় ভেতরে কি লেখা আছে। লেখকরা দ্বিদলীয় আদর্শ বাস্তবায়নে ব্যস্ত সময় পার করছে আরও পরিষ্কার ভাবে বলতে বলতে হয় দলীয় আদর্শের প্রতিচ্ছবি যেন লেখকদের প্রতিভাকে দুমড়ে মুচরে দিচ্ছে। সাংবাদিক ও সংবাদপত্র ছিল সমাজের দর্পন আজ সেই দর্পনে নিজের চেহারা দেখলে অবাক হতে হয়। নীতি , আদর্শ বিচ্যুত একঝাক মেধাবী মানুষ কিভাবে দলীয় কর্মীতে পরিনত হলো তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন মানুষ আছে যারা সাংবাদিকতার আদর্শকে এখনও ধারন করে আছে । ঐ সব সাধারন অথচ অসাধারন মানুষদের হাত ধরেই সমাজকে বদলে দেবে নতুন লেখকরা এই প্রত্যাশা দেশবাসীর।

সত্য তা যত কঠিনই হউক তা দেশবাসী ও সমাজের সামনে তুলে ধরাই সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের কাজ। লেখকদের কাজ হল রাষ্ট্র ও সমাজের অসংগতি তুলে ধরে রাষ্ট্রকে পরিশুদ্ধ করা। অথচ লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও কলামিস্টরা দলীয় আফিম খেয়ে সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য পরিনত করতে নিজস্ব মেধাকে যে ভাবে বিক্রি করে দিচ্ছে তাতে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে সংকিত হবার যথেষ্ট কারন আছে বলেই মনে করি। সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিক, লেখক , কবি , সাহিত্যিক ও কলামিস্টদের নৈতিক অধপতনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় প্রিয় মাতৃভূমি। মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য আমাদের কলম যেন হয় সত্য পথের সৈনিক সেই আকাংখাই করি।

সাংবাদিকদের অনেক গুলো সংগঠন আছে। বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির মত সাংবাদিকরা কেন এক হতে পারে না সেই বুঝ আসে না। একজন সাংবাদিক বিপদগ্রস্থ হলে সব সাংবাদিক তার পাশে কেন থাকে না। সাংবাদিকদের পরিচয় কেন হয় দলীয় আদর্শের ভিত্তিতে। সাংবাদিকদের কেন একটা জাতীয় ফোরাম নেই যেখানে সব দল ও মতের সাংবাদিকরা একত্রিত হবে। দল যদি ভালো কাজ করে তার প্রশংসা অবশ্যই করতে হবে আবার খারাপ কাজ করলে তার সমালোচনা করতে হবে যেন প্রিয় দল ভূল বুঝে পরিশুদ্ধ হতে পারে। তোষামদীর মত খারাপ একটা দিক সাংবাদিকদের চরিত্রের মধ্যে ঢুকে পরেছে যা বিগত কয়েক বছরেও ছিল না। এমন একটা সময় ছিল যখন মসজিদের ইমাম, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের মানুষ শ্রদ্ধা করতো এখন কি করে জানি না। সাংবাদিকদের আত্মসম্মানবোধ ও উৎকর্ষতা সাধনে সাংবাদিক ভাইদের এক সাথে কাজ করতে হবে। যে কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সৎ সাহস নিয়ে রুখে দাড়াতে হবে। আদর্শগত পার্থক্যে থাকতে পারে, মতবিরোধ থাকতে পারে কিন্তু জাতীয় বিষয় গুলোতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সাংবাদিকদের হৃত গৌরব ফিরিয়ে এনে সাধারন মানুষের সম্মান ও আস্থার জায়গায় স্থান করে নিতে হবে সত্যিকার আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আমীন।

বি:দ্র: এই মতামত সম্পুর্ণ লেখকের একক মত। এতে বীকনবাংলা.কমের কোন দায়বদ্ধতা নেই।