Lead Banner

নীতিহীনতার রাজনীতি!

165

লেখক ও কলামিস্ট
মুহাম্মদ আজিজুর রহমান:

জাতীয় নির্বাচনে জোটের রাজনীতি ২০০১ সালে চালু হয়েছিল। বর্তমানেও সেই ধারা অব্যাহত আছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই জোটের খেলা শুরু হয়েছে। নীতি ও আদর্শের বাইরেও জোটের পরিধী যে ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে যে কোন ধরনের জোটকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ধর্মনিরপেক্ষ দলের সাথে গোড়া ধর্মের মিল বন্ধন, বামদের সাথে ডানদের মিল কিছুই বাকী থাকবে না। আদর্শ , চেতনা, নীতি, নৈতিকতা বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই। বিবেক, বুদ্ধি, নীতি , আদর্শ , মূল্যবোধ ও বিশ্বাসকে ভেঙ্গে চূরে একাকার করে দেয় তারাই বড় রাজনীতিবিদ। যে কোন যুক্তি তর্কে আগামী দিনের ক্ষমতার পালাবদলের সাথে দেশের আমূল পরিবর্তন হবে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই তাই বাচা মড়ার লড়াইয়ে নীতি, আদর্শ , চেতনা সব গায়েব হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বাসের জায়গা গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতিতে নীতি ও আদর্শ বিলীন হবার পথে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নীতি ও আদর্শ বিচ্যুত হবার ইতিহাস বহু আগের। সেই ব্রিটিশ ভারত থেকে পাকিস্তান হয়ে আজকের বাংলাদেশ দল ও মতের পরিবর্তন হয়েছে হাজারো নেতার । দল ও মতের যে বিভাজন তা যদি আদর্শ কেন্দ্রীক হত তাতে লাভবান হত স্বদেশ বরং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই তা হয়েছে ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে। ফলে সত্যিকারের আদর্শ নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের সাথে আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্র, বামদের চক্রান্ত, জাসদের গনবাহিনী ও শ্রেনী শত্রু খতমের নামে আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করে সেই সময় দেশে অরাজক পরিস্থিতি কারা সৃষ্টি করেছিল সেই উপাখ্যান মহান নেতা নেত্রীরা মনে করতে চায় না। সেই উপাখ্যান রয়ে গেছে লোক চক্ষুর অন্তরালে। হত্যাকারীদের ফাঁসি হয়েছে ঠিকই কিন্তু বেনিফিসিয়ারীরা রয়ে গেছে অন্তরালে। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধ সংগ্রামে যারা শহীদ হল তাদের খোজও কেউ নেয় না। সবাই শুধু নীতি ও আদর্শের কথা বলে।

ধর্ম নিরপেক্ষতার আড়ালে চলে ধর্মীয় রীতি নীতির ব্যবহার। কমরেডরা মাথায় টুপি পরে হজ করে সেই সাথে হজের সেলফিও উপহার পাঠায়। এমন নেতা আছে যে বঙ্গবন্ধুর, জিয়া , এরশাদের সাথে রাজনীতি করেছে এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার সাথেও আছে। এমন লোকের সংখ্যা একেবারে কম নয়। সবাই নীতিকথা বলে আসলে নীতিহীনতাই সবচেয়ে বড় সম্পদ এখন বাংলাদেশে। যে যত বেশী তেল মারতে পারবে যত বেশী ডিগবাজি খেতে পারবে তিনি তত বড় নেতা । কযেক যুগ ধরে রাজনীতি করেছে এমপি নমিনেশন পায় নাই ধপাস করে দল পরিবর্তন করে ফেলেছে এই উদাহরন আছে অহরহ। ক্ষমতাই যে একমাত্র নীতি ও আদর্শ তাতে কোন সন্দেহ নেই। বিএনপি সর্ম্পকে নতুন করে বলার কিছু নেই। সুযোগ সন্ধানীরা বিএনপিকে ব্যবহার করে কাজ শেষ হলে উড়ে চলে যায়। যে কোন নীতি ও আদর্শের মানুষের জন্য বিএনপির দরজা খোলা তাদের নিজস্ব কোন নীতি ও আদর্শ নেই।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বেশীর ভাগ নেতাই এক সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করত। কার দোষে কি কারনে এই ব্যাখ্যায় না গিয়ে বলা যায় আওয়ামী বিরোধী জোটে এই সব নেতাদের নীতির সলিল সমাধি সাধারন মানুষের বিবেককে নাড়া দেয় তেমনি বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা কারীদের আওয়ামী লীগের পতাকা তলে দেখেও সাধারন মানুষের বিবেকের সলিল সমাধি হয়। ঐক্য ফ্রন্টের কোন কোন নেতা মঞ্চের পেছনে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার ব্যানার লাগিয়ে গায়ে মুজিব কোট চাপিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চায়। এর থেকে বড় ধাপ্পাবাজ আর কি হতে পারে। গায়ে মুজিব কোট চাপিয়ে বঙ্গবন্ধর কথা বলে ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচন করবে অনেকেই। এ সব দেখার কেউ নেই। সবাই স্বার্থের বিনিময়ে হালালকে হারাম আর হারামকে হালাল করে নিচ্ছে। এবারের নির্বাচন হবে আদর্শহীন, নীতি বিবর্জিত ।

গত কয়েক যুগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সহজেই অনুমেয় যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ বলতে কিছু নেই। রাজনীতি,সমরনীতি, নীতিকথা, নীতিবাক্য সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হল ক্ষমতা। ক্ষমতাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি। এখানে ধর্ম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নীতি আদর্শ সব কিছুই ক্ষমতা কেন্দ্রিক। চিরদিনের স্বৈরাচার হয়ে যায় আজীবনের বন্ধু, গনতন্ত্রবাদীরা স্বৈরাচারের মত আচরন করে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অহরহ নীতি ও আদর্শকে বিক্রি করে।