Lead Banner

চিকিৎসা ফের শুরু ‘বৃক্ষমানব’ বাজানদারের

14

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘বৃক্ষমানব’ আবুল বাজানদারের চিকিৎসা নতুন করে শুরু করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসকরা।

সোমবার সকালে বাজানদারকে ফের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এরপরই তার চিকিৎসা শুরু করেন চিকিৎসকরা।

দুপুরে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আমরা বাজানদারের চিকিৎসা নতুন করে শুরু করেছি। তার শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে৷ আগামী দুই-একদিনের মধ্যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

বিরল রোগ ‘ট্রি ম্যান’ সিনড্রোমে আক্রান্ত বাজানাদার ২০১৮ সালের ২৭ মে কাউকে কিছু না জানিয়েই ঢামেক হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। পরে ঢামেক কর্তৃপক্ষ আবুলের কাগজপত্রে তাকে ফেরারি হিসেবে দেখায়।

গতকাল রোববার সকালে আবারো চিকিৎসার জন্য খুলনা থেকে ঢামেকে আসেন বাজানদার। এ সময় তিনি পালিয়ে যাওয়ার জন্য চিকিৎসকদের কাছে দু:খ প্রকাশ করে ফের তার চিকিৎসা শুরু করার অনুরোধ করেন।

বাজানদার বলেন, ২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢামেকে ভর্তি হয়েছিলাম। চিকিৎসকরা আমাকে সুস্থ করে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তারা আমার হাত-পায়ে প্রায় ২৫টি অস্ত্রোপচার করেছেন, আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

তিনি আরো বলেন, প্রায় আড়াই বছর হাসপাতালে থাকার পরও আমি পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছিলাম না। অপারেশনের পরও আমার হাত-পায়ে আবার শিকড়ের মতো গজাচ্ছিল, যে কারণে আমি হতাশ হয়ে পড়ি। আমার রাগ-অভিমান হয়। আমি কাউকে কিছু না জানিয়েই হাসপাতাল থেকে খুলনায় চলে যাই।

হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য দু:খ প্রকাশ করে বাজানদার বলেন, আমার ভুল হয়েছে। এভাবে চলে যাওয়া ঠিক হয়নি। হাসপাতাল থেকে চলে যাবার পর আবার আমার হাত-পায়ের বিভিন্ন স্থানের শেকড় বড় হতে থাকে। অসহ্য জ্বালাপোড়া হতে থাকে। আমি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে চাই।

২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢামেকে ভর্তির পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, আবুল ‘এপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস’ রোগে আক্রান্ত। রোগটি ‘ট্রি-ম্যান’ (বৃক্ষমানব) সিনড্রম নামে অধিক পরিচিত। পরে আবুলের দুই হাত ও দুই পায়ে ছোট-বড় ২৩টিরও বেশি অস্ত্রোপচার করা হয়।