Lead Banner

চর জাগছে যমুনায়

3

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে চর। নদীর একেকটি জেগে উঠা চর একেকটি দ্বীপের মতো পরিণত হয়েছে। মূল নদীতে চর জেগে কয়েকটি চ্যানেলে ভাগ হয়েছে।

অন্যদিকে চরের মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছে। অনেক সময় বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বিশাল চর পাড়ি দিতে হয় তাদের। আবার খরার সময় মাথার ওপর প্রচণ্ড সূর্যের তাপ নিয়েই বালুচর পাড়ি দিতে হয় চরের মানুষের।

যমুনা নদী শুকিয়ে যাওয়ায় চরের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। নদী শাসন না হওয়ায় পানি শুকিয়ে যমুনা নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। যমুনা নদী শুকিয়ে কয়েকটি চ্যানেলে ভাগ হয়ে খালে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পর্যাপ্ত নাব্য না থাকার কারণে যমুনা নদীতে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মাঝ নদীতেই আটকে যাচ্ছে নৌকা। নদীতে চর জেগে উঠায় নৌকাগুলো বিভিন্ন পয়েন্টে রেখে দিয়েছে মালিকরা। দুই একটি নৌকা পালা-বদল করে চলাচল করছে। নির্ধারিত কোনো ঘাট না থাকায় নৌকা চালকরা সুবিধা মতো মানুষ নামিয়ে দিচ্ছে। ফলে কষ্ট করে নৌকায় উঠা-নামা করতে হচ্ছে চরের মানুষের।

জানা যায়, ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ও অজুর্না এই দুইটি ইউনিয়নে চর জেগে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। বাস্তুহারা হয়ে যায় শত শত পরিবার। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেই এলাকা বিশাল চরে পরিণত হয়।

অন্যদিকে ভরা মৌসুমে চরের মানুষের যাতায়াতের তেমন ভোগান্তি পোহাতে না হলেও শুষ্ক মৌসুমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় চরের মানুষের। শিক্ষার্থীরা পায়ে হেঁটে বিশাল চর পাড়ি দিয়ে নৌকা ঘাটে এসে এরপর তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।

চরাঞ্চলের অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানায়, চরে বাস করতে করতে কষ্ট কী জিনিস ভুলে গেছি। এখন আর কেউ চরে বাড়ি শুনলে মেয়ে-ছেলে বিয়ে করতে চায় না অনেকেই। যাতায়াতের সমস্যার কারণে ডেলিভারি রোগীদের হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয় না। এখন খরা মৌসুম তাই মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয়।

তাদের অভিযোগ, চরে যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতায়াত, দুর্যোগকালীন নিরাপত্তা অনেক সমস্যা এখনও রয়েছে। ফলে চরের চারিদিক বেড়িবাঁধ দিয়ে যমুনার ভাঙন ও ঝড়-জলোচ্ছাস থেকে চরের মানুষকে রক্ষার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।

এ ব্যাপারে উপজেলার চরাঞ্চলের গাবসারা মাদরাসার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে সহজ হয়। নৌকায় চড়ে মাদরাসার পিছনে গিয়ে নামতে পারি। আর এখন ১০ টাকা দিয়ে নৌকায় নদী পার হয়ে পরবর্তীতে দুই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে মাদরাসায় যেতে হচ্ছে। চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নদীতে চর জেগে উঠায়।’

চরচন্দনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘কষ্ট হলেও যেতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ ছাড়া যমুনা নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। মাঝ নদীতেই নৌকা আটকে পড়ে। আবার বর্ষার সময় খুব সহজেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে নামতে পারি। শুকনা মৌসুমে কষ্টটা বেশি সবচেয়ে।’

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফিজুর রহমান বলেন, ‘যমুনা নদীর টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর অংশের নদী শাসনের কোনো প্রকল্প নেয়া হয়নি। তবে উপজেলার কুঠিবয়ড়াসহ কয়েকটি স্থানে ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে। তবে এর আগে কয়েকটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হলেও সেগুলো পাস হয়নি।’