Lead Banner

উল্টো সুর, নির্বাচন নিয়ে সার্ক পর্যবেক্ষকের একাংশের

4

রানৈতিক প্রতিবেদক: গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন কানাডীয় পর্যবেক্ষক তানিয়া ফস্টার। এখন তিনিই বলছেন, নির্বাচন যতটা সুষ্ঠু হওয়ার কথা তারা বলেছিলেন ততটা সুষ্ঠু হয়নি। আরেক পর্যবেক্ষক আবদুস সালাম বলছেন, নতুন নির্বাচন হওয়া উচিত। তবে পর্যবেক্ষকের কয়েকজন বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, কেউ কিছু বললেই তা বিশ্বাস করার কারণ নেই।

সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মঙ্গলবার।

এতে বলা হয়েছে, কানাডার তানিয়া ফস্টার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শেষে ভোটের পরদিন গণভবনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতবিনিময় বলেছিলেন, ‘নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক হয়েছে। আমার মনে হয়, কানাডায়ও এভাবেই নির্বাচন হয়।’

কিন্তু সেই ফস্টার এখন বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, তখন তিনি সব কিছু একটু বেশি সরলভাবে নিয়েছিলেন।

একই রকম মনোভাব ব্যক্ত করেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম।

তিনি বলেছেন, ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মীরা ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরেছেন, ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখিয়েছেন। আমার মনে হচ্ছে, নতুন নির্বাচন হওয়া উচিত।’

এদিকে, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যোগাযোগ আছে বলে অভিযোগ আছে। সংগঠনটির উপদেষ্টা কমিটিতে আছেন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দুই সংসদ সদস্য।

এ ছাড়া নাম ও লোগোতে মিল থাকলেও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা তথা সার্কের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ সংস্থাটির কোনো সম্পর্কই নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আবেদ আলীর দাবি, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো যোগসূত্র নেই। অনুমোদনের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে তারা সার্কের কাছে আবেদন করেছেন।

তবে সার্কের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এই সংগঠন বা আবেদ আলীর নাম শোনেননি। সার্ক এই সংগঠনকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্কও নেই।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন কানাডা, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে কয়েকজন পর্যবেক্ষক নিয়ে আসে। ওই দলেই ছিলেন তানিয়া ফস্টার।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যে সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের যোগসূত্র রয়েছে বা সংগঠনটি যে সার্কের কেউ নয়, তা তিনি জানতেন না।

ফস্টার বলেন, ‘বিষয়টি আমার ভালো লাগেনি। আমার মনে হচ্ছে, সব কিছু আমি একটু বেশি সরলভাবে নিয়েছিলাম।’

তারা মাত্র ঢাকার নয়টি ভোটকেন্দ্রে গেছেন, কিন্তু তারপরও তাদের প্রতিবেদন যে এতটা গুরুত্ব পাবে তা বুঝতে পারেননি বলেও জানান ফস্টার।

অবশ্য সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আবেদ আলী বলছেন, কোনো সংগঠনের পক্ষেই নির্বাচনের সব কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ সম্ভব নয়।

তাদের ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের যোগসূত্রও নেই উল্লেখ করেন আবেদ আলী।

আবদুস সালামের বক্তব্য প্রসঙ্গে আলী বলেন, ‘কেউ একজন কিছু একটা বলে দিলো, তার ওপর ভিত্তি করেই কি আপনি কিছু লিখতে পারেন?’

তবে একই সংস্থার নেপালি পর্যবেক্ষক নাজির মিয়া বলেন, ‘আমরা সহিংস ঘটনার কথা শুনেছি, তবে স্বচক্ষে কিছু দেখিনি। কাজেই অন্য কোথাও যা ঘটেছে, তা নিয়ে আমরা মন্তব্য করতে পারি না।’

অন্যদিকে, ভারতীয় পর্যবেক্ষক গৌতম ঘোষ বলেন, ‘এমন ভালো নির্বাচন আমি এর আগে কখনো দেখিনি।’

এর আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।

বার্লিনভিত্তিক সংস্থাটি বলেছে, দ্বৈচয়নের মাধ্যমে তাদের বেছে নেওয়া ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৭টি আসনে কোনো না কোনো নির্বাচনী অনিয়ম হয়েছে।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ ২৬৬টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত জাতীয় পার্টি পায় ২২টি আসন। আর বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায় মাত্র ৭টি আসন।