Lead Banner

‘তুই’ বলায় খুন মেহেদী

3

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর দক্ষিণখানে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করায় শান্ত গ্রুপের কিশোর মেহেদীকে হত্যা করে আরাফাত গ্রুপের সদস্যরা। এ ঘটনায় চাকুসহ আট কিশোরকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেফতাকৃতরা হল, মোঃ সাইফ, মনির, আরাফাত, সাইফুল, মেহেরাব, আপেল, সিফাত ও সোহেল।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, ‘শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন সময়ে সিলেট ও দিনাজপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’

মশিউর বলেন, দক্ষিণখানের চেয়ারম্যান বাড়ি ইউপির নগরিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে কিশোর শান্ত ও কিশোর আরাফাত গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই হাতাহাতি ও মারামারি হতো। এরই জের ধরে শান্ত গ্রুপের সদস্য মেহেদী হাসানকে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ কমিশনার মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, দক্ষিণখানের ওই এলাকায় দুটি টিনেজ গ্রুপ সক্রিয় ছিল। একটি শান্ত ও অপরটি আরাফাত গ্রুপ। নিহত মেহেদী শান্ত গ্রুপের সদস্য ছিল। ঘটনার কিছুদিন আগে আরাফাত গ্রুপের এক সদস্য কাউসার মেহেদীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে। এই ‘তুই’ বলার জেরে শান্ত গ্রুপের ছেলেরা আরাফাত গ্রুপের কাউসারকে মারধর করে। এরপর ১৮ আগস্ট আবারও শান্ত গ্রুপের সদস্যরা আরাফাত গ্রুপের সাইফকে মারধর করে। এ ঘটনার পরই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩১ আগস্ট কেসি কনভেনশন হলে একটি জনসভার মিছিল নিয়ে ফেরার পথে মেহেদীর উপর আক্রমণ চালায় আরাফাত গ্রুপের সদস্যরা।

ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ ও গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মাসুদুর রহমান জানান, আসামীদের মধ্যে সানি ও সোহেল মেহেদীকে জড়িয়ে ধরে এবং সাইফ চাকু দিয়ে মেহেদীর বাম কানের নিচে স্টেপ করে ও অন্যান্যরা তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আহত অবস্থায় মেহেদীকে প্রথমে কেসি হাসপাতাল ও পরবর্তীতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা বাদি হয়ে দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও নিজস্ব ইন্টিলিজেন্স ব্যবহার করে আসামীদের সিলেট ও দিনাজপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান মাসুদুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, এই গ্রুপগুলো উক্ত এলাকায় চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, ছিনতাই, হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরণের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, মেহেদীকে হত্যার পর খুনিরা ঢাকার বাইরে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে অভিভাবকরা তাদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন। এজন্য তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

এই হত্যাকাণ্ডে আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান উপ কমিশনার মশিউর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোঃ শাহজাহান, কাজী শফিকুল আলম প্রমুখ।

বীকনবাংলা/এএমডি/আরিফ