Lead Banner

যৌন লিপ্সা, নারী নির্যাতন ও অবৈধ ব্যবসা!

13,238

পর্ব-১

বিশেষ প্রতিবেদক: রাজধানীর টেইলার ‘টপ টেন’ যা পুরুষের কাপড় সেলাইয়ের জন্য বিখ্যাত তার মালিক সৈয়দ হোসেনের নামে পর-নারী লিপ্সা ও নিজের বউদের (বড় বউ জুলেখা বেগম ও ছোট বউ তাহমিনা) নিয়মিত নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তার পরিবারবর্গই। সাথে তিনি এইসব পর-নারীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অবৈধ চোরাচালানের ব্যবসা করেন বলেও তারা জানিয়েছেন। সৈয়দ হোসেনের দুই বউ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত বিভিন্ন নারীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপণ করছেন বলেও তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।

সৈয়দ হোসেনের দুই বউই ভাটারা থানায় তাদের উপর সৈয়দ হোসেনের নির্যাতনের অভিযোগ করে একটি সাধারণ ডাইরি দায়ের করেন কিন্তু এতে কোন লাভ হয়নি কারণ পুলিশ তাদের কোন সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেন পরিবারবর্গ। তাদের কাছে সাধারণ ডাইরির একটি কপি চাওয়া হলে তারা তা দিতে ব্যর্থ হন এই বলে যে সৈয়দ হোসেন সাধারণ ডাইরির পুলিশের কাছ থেকে তাদের দেওয়া কপিটি সরিয়ে ফেলেছেন।

সৈয়দ হোসেন বিশেষ করে বড় বউ জুলেখা বেগমকে বেশি অত্যাচার করেন কারণ তার কোন সন্তান নেই বলে অভযোগ করেন জুলেখা বেগম এবং সন্তানের জন্যই জুলেখা বেগম নিজেই তার স্বামীকে ছোট বউ তাহমিনার সঙ্গে বিয়ে দেন। তাহমিনার সঙ্গে সৈয়দ হোসেনের ৫জন সন্তান রয়েছে। কিন্তু নারী পিপাসু উল্লেখ করেন পরিবারবর্গ সৈয়দ হোসেনকে। একাধিক নারীর সাথে তার অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ এনে তারা বলেন এখন ঝিনুক নামের এক নারীর সাথে তার নিয়মিত সহবাস চলছে। ঝিনুককে সৈয়দ হোসেন নিজের বাসায় এনেও রাত্রি যাপন করেন তাদের বের করে দিয়ে।

এই ঝিনুকের সাথেই সৈয়দ হোসেনের চোরাচালানের ব্যবসা রয়েছে বলেও পরিবারের সদস্যরা জানান। তারা বলেন, আগে শুধু টপ টেন টেইলার্স ছিল কিন্তু এখন এই ঝিনুকের জন্য ‘টপ টেন মার্ট’ খুলছেন সৈয়দ হোসেন। যেখানে এখন মহিলাদের কাপড়ও পাওয়া যায়। ঝিনুক পাকিস্তান থেকে মহিলাদের জন্য ঘোষণাবিহীন কাপড় নিয়ে আসেন এবং টপ টেন মার্টের মাধ্যমে সেই কাপড় বিক্রি করেন। কাপড় আনার সাথে সাথে ঝিনুক পাকিস্তান, দুবাই এসব জায়গা থেকে স্বর্ণের বার চোরাচালানী করে দেশে ঢোকান যাতে সম্পূর্ণরুপে সৈয়দ হোসেন সহযোগিতা করেন। পরে এই স্বর্ণ গুলিস্তানের খদ্দের মার্কেটের ‘পাকিস্তানি স্টোর রুম’ নামের দোকনের মালিক দিল মোহাম্মদের মাধ্যমে বিক্রি করেন তারা বলেও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।

সৈয়দ হোসেন সম্পর্কে তার পরিবারের কাছ থেকে এসব তথ্য জানার পরে বীকনবাংলা.কমের একটি বিশেষ দল অনুসন্ধানে নামে। তাকে নিয়মিত অনুসরণ করে দেখা যায় তিনি প্রতি দিন দুপুরের পরপরই তার মিরপুর অফিসের পিছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে যান। বের হয়ে নিজের গাড়ি রেখে তার জন্য অপেক্ষারত গাড়িতে করে চলে যান বিভিন্ন নারীর কাছে। তিনি যে গাড়িতে করে পর-নারীর সাথে মিলিত হতে যান সে গাড়ির মালিক ঝিনুক আর গাড়ির নম্বর প্লেট নং ঢাকা মেট্রো-গ-১৪-২৬৭৯।

এই ঝিনুকই শাহ আলী থানায় সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে সৈয়দ হোসেনের কাছে ৫০ লাখ টাকা পাবে বলে একটি সাধারণ ডাইরি দায়ের করেন যা ঝিনুক নিজেই বীকনবাংলা.কমে জানান। ঝিনুক আরো বলেন, ব্যবসা করতে গেলে এরকম দৈহিক সম্পর্ক হতেই পারে এটা অস্বাভাবিক কিছু না। তিনি জানান, ‘আমি সাধারণ ডাইরি করেছি উনার কাছে টাকা পাবো বলে। এটা আমাদের নিজেদের ব্যপার। সে সব কিছু ঠিকমত করলে আমি অভিযোগ তুলে নিবো। আর আমি শুধু উনার মাধ্যমে মালামাল বিক্রয় করি না আমার আরো খদ্দের আছে।’

ঝিনুকের সাধারণ ডাইরি করার বিষয়টি সৈয়দ হোসেনের জিএম মাসুদ আলীও স্বীকার করেন। মাসুদ আলী সম্পর্কে সৈয়দ হোসেনের পরিবার বলেন, যে মাসুদই সৈয়দ হোসেনকে বেশী করে নারী সঙ্গের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এতে মাসুদের লাভ হল সৈয়দ হোসেনের সব টাকা তার হাত দিয়ে যাচ্ছে এবং সেও লাভবান হচ্ছেন। মাসুদ তো নিজেকে টপ টেনের অংশীদার হিসাবেও লোকজনের কাছে বলে বেড়াচ্ছেন এবং টপ টেনের নামে টাকাও নিচ্ছেন।’

টপ টেনের মালিকের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে দেখা যায় সৈয়দ হোসেন মতিঝিল, মগবাজার, রামপুরা, উত্তরা, গুলশান-২ এর বিভিন্ন হোটেলে বিভিন্ন মহিলা নিয়ে থাকছেন। বিভিন্ন মহিলার মাঝে ঝিনুকের তার সঙ্গে থাকার পরিমাণটা বেশী।

যৌন লিপ্সা, নারী নির্যাতন ও অবৈধ ব্যবসা!এসব বিষয় নিয়ে টপ টেনের মালিক সৈয়দ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করে দেখা করে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে এড়িয়ে গেছেন। তিনি ওনার বিষয়ে নিউজ না করার জন্য চ্যানেল আই-এর এজিএম-কে দিয়েও ফোন করিয়েছেন এই অনুসন্ধানী দলের প্রধানকে। চ্যানেল আই-এর এজিএম ফোন করে দলের প্রধানকে নিউজটি না করতে সরাসরি বলেন। সৈয়দ হোসেন কটুক্তি করে বলেন সাংবাদিক আমার কি করতে পারবে আর এই দেশে আমার বিচার করার ক্ষমতা কারো নেই। আমি এমন ঠেলা দেব যে সাংবাদিক কেনো আরো কেউ আসলেও আমার কিছুই করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন জুলেখাকে (তার বড় বউ) মেরে ফেলতে আমার দুই মিনিটও লাগবেনা। লাশ কোথায় গায়েব হয়ে যাবে তার কেউ খুজেও পাবে না।

সৈয়দ হোসেনের টাকার গরমে ও প্রাণনাশের হুমকিতে আতঙ্কে আছেন তার বড় বউ জুলেখা বেগম। জুলেখা বেগম বারবার অনুরোধ করে বলেন যে, আমার কথা লিখেন না, লিখলেই আমাকে সৈয়দ ও ঝিনুক আমাকে মেরে ফেলবে। তিনি এও জানান, ঝিনুক তার বাসায় এসে তাকে ও তাহমিনাকে সৈয়দ হোসেনের সামনে মারধর করে কিন্তু সৈয়দ হোসেন কিছুই বলেন না। আর আপনারা সাংবাদিক সে আপনাদেরও ক্ষতি করবে কারণ তার টাকা আছে। টাকা দিয়ে আপনাদের ক্ষতি করা তার জন্য কোনো ব্যপারই না। টাকা দিয়ে সে সব করতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টপ টেনের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকদিন আগে এয়ারপোর্টে দুবাই থেকে দেশে আসার পথে ঝিনুক ও সৈয়দ হোসেনকে পুলিশ বা র‍্যাব (সঠিক কারা বলতে পারেননি ওই ব্যক্তি) আটক করে অবৈধ স্বর্নালঙ্কারসহ অনেক মালামাল উদ্ধার করে। পরে আমরা খবর পেয়ে অনেক দৌড়াদৌড়ি করে প্রায় কোটিখানেক টাকা খরচ করে দুজনকে বের করি।

ঝিনুকের পাসপোর্ট নং BF0629107 আর সৈয়দ হোসেনের পাসপোর্ট নং BE0281139।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, আমাদের কিছুই করার থাকে না স্যারের এসব কাজ কারবার দেখে। স্যারতো অফিসের ভিতরেই তার যৌন পিপাসা মিটানোর জন্য জায়গা বানিয়ে রেখেছেন। সেখানে বিছানাসহ সকল ব্যবস্থাই আছে। বাহির থেকে দেখলে কেউ বলতেও পারবে না যে ওখনে একটি ঘর রয়েছে এমনভাবে বানিয়েছেন আর টেইলারিং ছেড়ে অবৈধ ব্যবসা করার কি প্রয়োজন স্যারের তা আমার বোধ্যগম্য নয়।

সৈয়দ হোসেনের বিরুদ্ধে এখনো বীকনবাংলা.কমের অনুসন্ধান জারী রয়েছে আর তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্যের অনেক সত্যতা স্বীকার করেছেন স্বয়ং তারই জিএম মাসুদ আলী।

সৈয়দ হোসেন আবার দুবাই যাবেন কারণ ঝিনুক এখন দুবাই আছেন। তিনি ঝিনুক আর অবৈধ উপায়ে টাকা কামানো ছাড়া কিছুই বুঝেন না বলে তার এক কর্মচারী বীকনবাংলা.কমকে বলেন।