Lead Banner

কিভাবে চিনবেন জাল টাকা? (ভিডিও)

86

আলী মোহাম্মদ ঢালী

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কেনাকাটায় সব জায়গায় নগদ টাকার লেনদেন বেড়ে যায়। আর এ সময় অনেকের পকেটে জাল টাকা চলে আসে। ফলে এই জাল টাকা নিয়ে বিপাকে পড়েন অনেকে।

মূলত কিছু অসাধু ব্যক্তির জাল নোট তৈরি ও বাজারজাত করার কারণে টাকা লেনদেন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে ঈদে পশুর হাট ঘিরে এসব প্রতারক চক্র বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র গণমাধ্যম শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদুর রহমান বীকনবাংলাকে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও পশুর হাটে জালনোট সনাক্তকারী মেশিন থাকবে। এর বাইরেও কোনো ব্যক্তি যদি মনে করেন তাহলে জাল টাকা যাচাই-বাছাই করেতে পারেন। ৫শ ও এক হাজার টাকার নোটে জলছাপ আছে কিনা, সুতা আছে কিনা, টাকা খসখসে বা টাকার রঙ পরির্বতন হয় কিনা- যার কাছেই টাকা থাকুক না কেন প্রাথমিকভাবে সে এসব নমুনা দেখতে পারেন।

তিনি জানান, আসল ও নকল টাকা চেনার সহজ কিছু উপায় রয়েছে সেগুলো হলো:

নিরপাত্তা সুতা : ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার প্রত্যেক নোটেই মূল্যমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো সম্বলিত নিরাপত্তা সুতা রয়েছে। নোটের মূল্যমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো নিরাপত্তা সুতার ৪টি স্থানে মুদ্রিত আছে। নোট চিত করে ধরলে নিরাপত্তা সুতায় মূল্যমান লোগো দেখা যাবে। এ নিরাপত্তা সুতা অনেক মজবুত বা নোটের কাগজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নখের আঁচড়ে বা মুচড়িয়ে নিরাপত্তা সুতা কোনোক্রমেই ওঠানো সম্ভব নয়। জালনোটে নিরাপত্তা সুতা সহজেই নখের আঁচড়ে বা মুচড়ানোতে উঠে যাবে।

রঙ পরিবর্তনশীল কালি : ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের প্রত্যেক নোটের উপরের ডানদিকে কোণায় ইংরেজি সংখ্যায় লেখা নোটের মূল্যমান রঙ পরিবর্তনশীল কালিতে মুদ্রিত রয়েছে। ১০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোট আস্তে আস্তে নাড়াচাড়া করলে নোটের মূল্যমান লেখাটি সোনালি হতে ক্রমেই সবুজ রংয়ে পরিবর্তিত হয়। একইভাবে ৫০০ টাকা মূল্যমানের নোটে ৫০০ মূল্যমান লেখাটি লালচে হতে পরিবর্তিত হয়ে সবুজ হয়। জালনোটে ব্যবহৃত এ রঙ চকচক করলেও তা পরিবর্তিত হয় না।

অসমতল ছাপা : ১০০, ৫০০, ১০০০ টাকা মূল্যমানের প্রত্যেক প্রকার নোটের সম্মুখ ও পশ্চাৎ পৃষ্ঠের ডিজাইন, মধ্যভাগের লেখা, নোটের মূল্যমান এবং ৭টি সমান্তরাল সরলরেখা উঁচু-নিচু (খসখসে)ভাবে মুদ্রিত আছে। তাছাড়া, নোটের ডানদিকে ১০০ টাকার নোটে ৩টি, ৫০০ টাকার নোটে ৪টি এবং ১০০০ টাকার নোটে ৫টি ছোট বৃত্তাকার ছাপ আছে যা হাতের স্পর্শে উঁচু-নিচু (খসখসে) অনুভূত হয়। এ সকল বৈশিষ্ট্য জালনোটে সংযোজন করা সম্ভব নয়।

জলছাপ : ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের প্রত্যেক প্রকার নোটে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম এবং নোটের মূল্যমান জলছাপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম এবং নোটের মূল্যমান প্রতিকৃতির তুলনায় উজ্জ্বল দেখাবে।

জাল টাকাসহ কোনো ব্যক্তি যদি ধরা পড়েন তাহলে সে ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর এ আইনে কয়েক বছরের সাজার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ভিডিও:

 

বীকনবাংলা/ঢালী/রাজীব